ফ্রান্সের সর্বপ্রধান সিনাগগ ও উনিশ শতকের অপূর্ব ইহুদি স্থাপত্য
১৮৬৭ থেকে ১৮৭৪ সালের মধ্যে বিশিষ্ট ফরাসি স্থপতি আলফ্রেড-ফিলবার্ট অ্যালড্রফের নকশায় নির্মিত গ্র্যান্ড সিনাগগ দ্য প্যারিস (সিনাগগ দ্য লা ভিকতোয়ার) হলো পুরো ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম সক্রিয় সিনাগগ। প্যারিসের ৯ম অ্যারনডিসমেন্টের রু দ্য লা ভিকতোয়ারে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক উপাসনালয়টি ফ্রান্স ও প্যারিসের প্রধান রব্বিদের আনুষ্ঠানিক কার্যালয়। ১৯৮৭ সালে এটিকে ফরাসি ঐতিহাসিক স্মারক (Monuments Historiques) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
রোমানো-বাইজেন্টাইন স্থাপত্য ও ২৮ মিটার উঁচু ভল্ট
সিনাগগের ৩৬ মিটার উঁচু সম্মুখভাগে হিব্রু অক্ষরে খোদাই করা দশটি আদেশ (টেন কমান্ডমেন্টস) এবং বিশালাকার গোলাপ জানালা শোভা পায়। এর অভ্যন্তরের ছাদ ২৮ মিটার উঁচু, যা দুই স্তরের মার্বেল গ্যালারি এবং ঝাড়বাতি দিয়ে অপরূপভাবে সাজানো।
ধর্মীয় কার্যক্রম, সুমধুর গীতি-ঐতিহ্য ও জাতীয় স্মরণসভা
এই সিনাগগটি তার অতুলনীয় শব্দের গমগম ভাব এবং বিশ্বমানের লা ভিকতোয়ার গায়কদলের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। এখানে বিখ্যাত কাভায়ে-কল অর্গান বাদ্য রয়েছে। প্রতি বছর ফ্রান্সে হলোকাস্টে নিহতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোকসভা এই ঐতিহাসিক সিনাগগেই অনুষ্ঠিত হয়।
- দৈনিক তিন ওয়াক্ত প্রার্থনা: সকালের শাহারিত, দুপুরের মিনচা এবং সন্ধ্যার আরভিত প্রার্থনা নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়।
- শাব্বাত প্রার্থনা: প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় (কাব্বালাত শাব্বাত) এবং শনিবার সকালে ঐশ্বরিক আবহ সংগীত ও তোরাহ পাঠের মাধ্যমে শাব্বাত উদযাপিত হয়।
- মহাপর্বসমূহ: রোশ হাশানাহ, ইয়ম কিপুর, পাসওভার এবং হানুক্কাহ উপলক্ষে বিশেষ আলোকসজ্জা ও ধর্মীয় আচার।
- পবিত্র তোরাহ সিন্দুক (অ্যারন কোদেশ): মার্বেল খোদাই করা সুবিশাল সিন্দুক যেখানে মখমলের আবরণে মোড়া পবিত্র তোরাহ স্ক্রলগুলো সংরক্ষিত রয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ও প্রবেশ নির্দেশিকা
নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রবেশদ্বারে আইডি চেকিং হতে পারে। পুরুষদের অবশ্যই ভেতরে প্রবেশের আগে মাথা ঢেকে রাখতে হবে (প্রবেশদ্বারে কিপ্পাহ প্রদান করা হয়)। শালীন পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। ইউরোপীয় ঐতিহ্য দিবসে এখানে বিশেষ নির্দেশিত ট্যুর পরিচালনা করা হয়।